কোলন ক্যান্সার হয়েছে শুনলে ভয় পাওয়া স্বাভাবিক, আর প্রথম প্রশ্নগুলো সাধারণত অস্ত্রোপচার নিয়েই হয়। অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে টিউমার অপসারণই প্রধান চিকিৎসা এবং সেরে ওঠার সবচেয়ে ভালো সুযোগ। এখন এই অস্ত্রোপচার প্রায়ই ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে করা হয়। অস্ত্রোপচারে কী করা হয় এবং আগে-পরে কী আশা করবেন, এই লেখায় তা বলা হয়েছে।
কোলন ক্যান্সারের সাধারণ উপসর্গ
- মলের সঙ্গে রক্ত
- কয়েক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন
- অকারণে রক্তস্বল্পতা, দুর্বলতা বা ওজন কমা
- পেটব্যথা, পেট ফাঁপা বা পেটে চাকা
প্রাথমিক অবস্থায় কোলন ক্যান্সারে কোনো উপসর্গই না থাকতে পারে; এ কারণেই কোলনোস্কোপি এত গুরুত্বপূর্ণ।
অস্ত্রোপচারের আগের পরীক্ষা
বায়োপসিসহ কোলনোস্কোপির মাধ্যমে রোগ নিশ্চিত করা হয়। স্ক্যান, সাধারণত বুক ও পেটের সিটি স্ক্যান, দেখায় ক্যান্সার কতটা ছড়িয়েছে (পর্যায় বা স্টেজ)। রক্ত পরীক্ষা এবং হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসের পরীক্ষায় দেখা হয় আপনি অস্ত্রোপচারের জন্য উপযুক্ত কি না। এসব ফলাফলের ভিত্তিতে চিকিৎসার পরিকল্পনা করা হয়।
অস্ত্রোপচারে কী করা হয়
সার্জন টিউমারসহ কোলনের অংশটি, দুই পাশে কিছুটা সুস্থ অন্ত্র এবং কাছের লসিকাগ্রন্থি (লিম্ফ নোড) অপসারণ করেন। এরপর সুস্থ দুই প্রান্ত জোড়া দেওয়া হয়। কোন অংশ অপসারণ করা হচ্ছে তার ওপর অস্ত্রোপচারের নাম নির্ভর করে, যেমন রাইট বা লেফট হেমিকোলেকটমি।
ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে কয়েকটি ছোট ছিদ্র দিয়ে ক্যামেরা ও লম্বা যন্ত্রের সাহায্যে এটি করা হয়। অপসারিত অন্ত্র একটি সামান্য বড় কাটা দিয়ে বের করা হয়। কোলোরেক্টাল ক্যান্সার সার্জারি সম্পর্কে আরও পড়ুন।
ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতির সুবিধা
- ক্ষত ছোট এবং পরে ব্যথা কম
- অন্ত্রের কাজ, খাওয়া ও হাঁটা আগে শুরু হয়
- অধিকাংশ রোগীর হাসপাতালে কম দিন থাকতে হয়
- ক্ষতের সমস্যা কম হয়
বড় গবেষণায় দেখা গেছে, উপযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারির পর ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণের ফলাফল ওপেন সার্জারির মতোই ভালো।
সবাই কি উপযুক্ত?
সব সময় নয়। খুব বড় টিউমার, পাশের অঙ্গে ছড়িয়ে পড়া টিউমার, অন্ত্র বন্ধ হয়ে যাওয়া বা ফুটো হওয়া, অথবা আগে অনেক অস্ত্রোপচার হয়ে থাকলে ওপেন সার্জারি বেশি নিরাপদ হতে পারে। কখনো নিরাপত্তার জন্য অস্ত্রোপচারের সময় ল্যাপারোস্কোপিক থেকে ওপেন পদ্ধতিতে যেতে হয়।
আমার কি স্টোমা লাগবে?
পরিকল্পিত কোলন ক্যান্সার অস্ত্রোপচারে অধিকাংশ রোগীর লাগে না। স্টোমা (পেটের ওপর অন্ত্রের মুখ, সঙ্গে ব্যাগ) কখনো জরুরি অবস্থায় বা অন্ত্রের নিচের দিকের জোড়া রক্ষা করতে প্রয়োজন হয় এবং প্রায়ই তা সাময়িক। এর সম্ভাবনা থাকলে সার্জন আগেই জানাবেন।
হাসপাতালে ও বাড়িতে সেরে ওঠা
- তাড়াতাড়ি উঠে বসতে ও হাঁটতে উৎসাহ দেওয়া হবে; এতে রক্ত জমাট বাঁধা ও বুকে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে
- অন্ত্র স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে ধাপে ধাপে তরল ও খাবার শুরু করা হয়
- অগ্রগতি অনুযায়ী অধিকাংশ রোগী প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে বাড়ি যান
- কয়েক সপ্তাহ ক্লান্তি স্বাভাবিক; ধীরে ধীরে কাজ বাড়ান এবং অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত ভারী জিনিস তুলবেন না
সম্ভাব্য ঝুঁকি
ঝুঁকির মধ্যে আছে রক্তপাত, সংক্রমণ, অন্ত্রের জোড়া থেকে লিক, রক্ত জমাট বাঁধা এবং অ্যানেস্থেসিয়ার ঝুঁকি। সার্জিক্যাল টিম এগুলোর দিকে নিবিড় নজর রাখে এবং সম্মতি নেওয়ার আগে বুঝিয়ে বলে।
অস্ত্রোপচারের পরে: প্যাথলজি রিপোর্ট ও ফলো-আপ
অপসারিত অন্ত্র ও লসিকাগ্রন্থি ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। এই রিপোর্টে ক্যান্সারের চূড়ান্ত পর্যায় জানা যায় এবং কেমোথেরাপির মতো আরও চিকিৎসা প্রয়োজন কি না তা ঠিক হয়। নিয়মিত ফলো-আপ, রক্ত পরীক্ষা, স্ক্যান ও কোলনোস্কোপি দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার অংশ।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
কোলন ক্যান্সার কি সারে?
হ্যাঁ, অনেক রোগী সুস্থ হয়ে যান, বিশেষ করে ক্যান্সার প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে এবং সম্পূর্ণ অপসারণ করা গেলে।
অস্ত্রোপচারে কত সময় লাগে?
সাধারণত কয়েক ঘণ্টা; টিউমারের অবস্থান ও আপনার শারীরিক গঠনের ওপর এটি নির্ভর করে।
রেক্টাম ক্যান্সারের চিকিৎসাও কি একই রকম?
মূলনীতি একই, তবে রেক্টাম ক্যান্সারে প্রায়ই বাড়তি পরিকল্পনা লাগে এবং কখনো অস্ত্রোপচারের আগে রেডিওথেরাপি বা কেমোথেরাপি দিতে হয়।
ডাঃ ফাইম চৌধুরী (সনি)-র সঙ্গে আপনার রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা করতে অ্যাপয়েন্টমেন্টের অনুরোধ করুন। অনুগ্রহ করে কোলনোস্কোপি, বায়োপসি ও স্ক্যানের রিপোর্ট সঙ্গে আনুন।
এই লেখাটি সাধারণ সচেতনতার জন্য; এটি চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়।
