বৃহদন্ত্র পরীক্ষার সবচেয়ে নির্ভুল পদ্ধতি হলো কোলনোস্কোপি। উপসর্গের কারণ খুঁজতে চিকিৎসক এটি করতে বলেন এবং অনেক সময় একই সঙ্গে চিকিৎসাও করা যায়। কেন কোলনোস্কোপি দরকার হতে পারে, কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন, পরীক্ষার দিন কী হয় এবং ফলাফলের অর্থ কী, এই লেখায় তা বলা হয়েছে।
কোলনোস্কোপি কী?
কোলনোস্কোপ হলো আগায় আলো ও ক্যামেরা লাগানো একটি সরু, নমনীয় নল। এটি মলদ্বার দিয়ে আস্তে আস্তে ঢুকিয়ে চিকিৎসক পর্দায় রেক্টাম ও পুরো কোলনের ভেতরের আবরণ দেখেন। এর ভেতর দিয়ে ছোট যন্ত্র ঢুকিয়ে নমুনা নেওয়া বা পলিপ অপসারণ করা যায়। কোলনোস্কোপি ও এন্ডোস্কোপিক সেবা সম্পর্কে আরও পড়ুন।
যেসব উপসর্গে কোলনোস্কোপি দরকার হতে পারে
- মলের সঙ্গে রক্ত বা মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত
- কয়েক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন
- স্পষ্ট কারণ ছাড়া দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য
- অকারণে আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা
- অকারণে ওজন কমা বা দীর্ঘস্থায়ী পেটব্যথা
- স্ক্যান বা মল পরীক্ষায় অস্বাভাবিক কিছু পাওয়া
আর যেসব কারণে চিকিৎসক এটি করতে বলতে পারেন
- পরিবারে অন্ত্রের ক্যান্সার বা পলিপের ইতিহাস
- পলিপ অপসারণের পর ফলো-আপ
- অন্ত্রের ক্যান্সারের চিকিৎসার পর নিয়মিত পরীক্ষা
- ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ পর্যবেক্ষণ
প্রস্তুতি
- খাবার। প্রথমে হালকা, কম আঁশযুক্ত খাবার এবং পরীক্ষার আগে শুধু স্বচ্ছ তরল খেতে বলা হবে।
- অন্ত্র পরিষ্কার। অন্ত্র খালি করার জন্য একটি ল্যাক্সেটিভ দ্রবণ পান করতে হবে। বারবার পাতলা পায়খানা হবে; টয়লেটের কাছাকাছি থাকুন।
- ওষুধ। রক্ত পাতলা করার ওষুধ, আয়রন ট্যাবলেট ও ডায়াবেটিসের ওষুধের কথা চিকিৎসককে জানান। বলা না হলে কোনো ওষুধ বন্ধ করবেন না।
- সঙ্গী। বাড়ি ফেরার জন্য একজন প্রাপ্তবয়স্ককে সঙ্গে রাখুন।
ভালো প্রস্তুতিই আপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। অন্ত্র পরিষ্কার না হলে ছোট পলিপ চোখ এড়িয়ে যেতে পারে এবং পরীক্ষাটি আবার করতে হতে পারে।
পরীক্ষার দিন কী হয়
আপনাকে কাত হয়ে শুতে বলা হবে। সাধারণত শিরায় ঘুমের ওষুধ (সিডেশন) দেওয়া হয়, যাতে আপনি স্বস্তিতে থাকেন। চিকিৎসক কোলনোস্কোপটি পুরো অন্ত্রে এগিয়ে নেন এবং বের করার সময় আবরণ ভালোভাবে পরীক্ষা করেন। পরীক্ষায় সাধারণত এক ঘণ্টার কম সময় লাগে; এরপর সিডেশনের প্রভাব না কাটা পর্যন্ত বিশ্রাম নিতে হয়।
পরীক্ষার পরে
কয়েক ঘণ্টা হালকা পেট ফাঁপা বা বায়ু হওয়া স্বাভাবিক। সাধারণত একই দিনে স্বাভাবিক খাবার খাওয়া যায়। সিডেশন নিয়ে থাকলে পরদিন পর্যন্ত গাড়ি চালাবেন না, যন্ত্রপাতি চালাবেন না বা গুরুত্বপূর্ণ কাগজে সই করবেন না। বায়োপসি বা পলিপ অপসারণের পর প্রথম পায়খানায় সামান্য রক্ত যেতে পারে।
পরীক্ষার পর তীব্র পেটব্যথা, বেশি বা একটানা রক্তপাত অথবা জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
ফলাফল বোঝা
কী দেখা গেছে তা চিকিৎসক সাধারণত বাড়ি যাওয়ার আগেই জানিয়ে দেন। বায়োপসি ও অপসারিত পলিপের রিপোর্ট কয়েক দিন পর ল্যাবরেটরি থেকে আসে। ফলাফল অনুযায়ী আর কিছু না-ও লাগতে পারে, কয়েক বছর পর আবার কোলনোস্কোপি লাগতে পারে, অথবা চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
কোলনোস্কোপির কি কোনো বিকল্প আছে?
মল পরীক্ষা ও স্ক্যান থেকে দরকারি তথ্য পাওয়া যায়, তবে এগুলো দিয়ে নমুনা নেওয়া বা পলিপ অপসারণ করা যায় না। এগুলোতে অস্বাভাবিক কিছু পেলে সাধারণত কোলনোস্কোপি করতেই হয়।
পুরো প্রক্রিয়ায় কত সময় লাগে?
প্রস্তুতি, পরীক্ষা ও সিডেশন থেকে সেরে ওঠা মিলিয়ে কয়েক ঘণ্টা সময় হাতে রাখুন।
মাসিকের সময় বা পাইলস থাকলে কি করা যায়?
যায়। কোনোটিই পরীক্ষায় বাধা নয়।
ওপরের কোনো উপসর্গ থাকলে কোলনোস্কোপি আপনার জন্য প্রয়োজন কি না জানতে অ্যাপয়েন্টমেন্টের অনুরোধ করুন।
এই লেখাটি সাধারণ সচেতনতার জন্য; এটি চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়।
