রেক্টাল প্রোল্যাপ্সে বৃহদন্ত্রের শেষ অংশ রেক্টাম (মলাশয়) নিচে নেমে মলদ্বার দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। এটি অস্বস্তিকর এবং অনেকের কাছে বিব্রতকর, তাই অনেকে দেরিতে চিকিৎসা নেন। এর কার্যকর চিকিৎসা আছে। এই লেখায় উপসর্গ ও কারণ এবং চিকিৎসার বিকল্পগুলোর তুলনা দেওয়া হয়েছে।
রেক্টাল প্রোল্যাপ্স কী?
পূর্ণ প্রোল্যাপ্সে রেক্টামের পুরো দেয়াল বেরিয়ে আসে। শুরুতে এটি শুধু চাপ দিলে বের হয় এবং নিজে থেকেই ভেতরে চলে যায়। পরে দাঁড়ালে বা হাঁটলেও বের হতে পারে এবং হাত দিয়ে ঠেলে ঢোকাতে হয়। রেক্টাল প্রোল্যাপ্স পেজে আরও পড়ুন।
উপসর্গ
- মলদ্বার দিয়ে লাল, ভেজা পিণ্ড বা মাংসল অংশ বেরিয়ে আসা
- কাপড়ে শ্লেষ্মা বা রক্ত
- পুরোপুরি মলত্যাগ না হওয়ার অনুভূতি
- কোষ্ঠকাঠিন্য অথবা অনিচ্ছায় মল বেরিয়ে যাওয়া
- বসতে অস্বস্তি
রেক্টাল প্রোল্যাপ্স নাকি পাইলস?
দুটিতেই মলদ্বারে পিণ্ড হয় বলে অনেকে গুলিয়ে ফেলেন। হেমোরয়েড (পাইলস) হলো ফুলে ওঠা রক্তনালি, আর প্রোল্যাপ্সে অন্ত্রের দেয়ালই বেরিয়ে আসে, যা সাধারণত গোলাকার ভাঁজের মতো দেখায়। চিকিৎসা আলাদা, তাই বিশেষজ্ঞের পরীক্ষা জরুরি।
কারণ ও ঝুঁকি
- দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য ও জোরে চাপ দেওয়া
- পেলভিক ফ্লোরের পেশির দুর্বলতা, যা বয়সের সঙ্গে ও সন্তান প্রসবের পর বেশি হয়
- দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া
- কিছু রোগীর ক্ষেত্রে স্নায়ু বা মেরুদণ্ডের সমস্যা
বয়স্ক নারীদের মধ্যে এটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, তবে পুরুষদের এবং যেকোনো বয়সে হতে পারে।
রোগ নির্ণয়
সাধারণত শারীরিক পরীক্ষাতেই রোগ ধরা পড়ে; কখনো আপনাকে চাপ দিতে বলা হয়। অন্ত্রের বাকি অংশ দেখার জন্য কোলনোস্কোপি করতে বলা হতে পারে এবং কিছু রোগীর অন্ত্র ও পেলভিক ফ্লোরের কার্যকারিতার পরীক্ষা লাগে।
অস্ত্রোপচার ছাড়া কি চিকিৎসা হয়?
আঁশ, পানি ও ল্যাক্সেটিভ দিয়ে কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসা করলে উপসর্গ কমে এবং এটি সবার জন্যই জরুরি। তবে প্রাপ্তবয়স্কদের পূর্ণ প্রোল্যাপ্স অস্ত্রোপচার ছাড়া সারে না।
অস্ত্রোপচারের বিকল্প
পেটের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার (রেক্টোপেক্সি)
রেক্টামকে তুলে পেলভিসের পেছনের হাড়ের সঙ্গে স্থির করা হয়, প্রায়ই মেশ ব্যবহার করে। এটি প্রায়ই ছোট ছিদ্র দিয়ে ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে করা হয়। তীব্র কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে একই সঙ্গে কোলনের একটি অংশ অপসারণ করা হতে পারে। এসব অস্ত্রোপচারে প্রোল্যাপ্স ফিরে আসার আশঙ্কা সাধারণত কম।
নিচের দিক থেকে অস্ত্রোপচার (পেরিনিয়াল প্রসিডিউর)
পেট না খুলে মলদ্বারের মাধ্যমে প্রোল্যাপ্স মেরামত করা হয়। এসব অস্ত্রোপচারে সময় কম লাগে এবং শরীরের ওপর ধকল কম, তাই বয়স্ক বা দুর্বল রোগীদের জন্য প্রায়ই বেছে নেওয়া হয়; তবে প্রোল্যাপ্স ফিরে আসার আশঙ্কা কিছুটা বেশি।
কীভাবে পদ্ধতি বেছে নেওয়া হয়
সার্জন আপনার বয়স, সার্বিক স্বাস্থ্য, মলত্যাগের অবস্থা, আগের অস্ত্রোপচার ও প্রোল্যাপ্সের আকার বিবেচনা করেন এবং আপনার সঙ্গে বিকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা করেন।
সেরে ওঠা ও পুনরায় হওয়া প্রতিরোধ
- ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারির পর অধিকাংশ রোগী পরদিন হাঁটেন এবং কয়েক দিনের মধ্যে বাড়ি যান
- চাপ দেওয়া এড়িয়ে চলুন: আঁশযুক্ত খাবার খান, পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং পরামর্শ অনুযায়ী ল্যাক্সেটিভ নিন
- কয়েক সপ্তাহ ভারী জিনিস তুলবেন না
- পেলভিক ফ্লোরের ব্যায়াম মল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে
কখন জরুরি চিকিৎসা নেবেন
প্রোল্যাপ্স ঠেলে ভেতরে ঢোকানো না গেলে, খুব ব্যথা হলে বা রং কালচে হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
অস্ত্রোপচারের পর কি মল নিয়ন্ত্রণ ভালো হবে?
প্রোল্যাপ্স ঠিক হলে অনেক রোগীর নিয়ন্ত্রণ ভালো হয়, যদিও উন্নতি হতে কয়েক মাস লাগতে পারে।
প্রোল্যাপ্স কি আবার হতে পারে?
যেকোনো অস্ত্রোপচারের পরই হতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্য ও চাপ দেওয়া এড়ালে আশঙ্কা কমে।
রেক্টাল প্রোল্যাপ্স কি ক্যান্সার?
না। এটি ক্যান্সার নয় এবং ক্যান্সারে পরিণত হয় না; তবে রক্তপাত থাকলে অন্ত্র পরীক্ষা করানো উচিত।
পরীক্ষার জন্য ডাঃ ফাইম চৌধুরী (সনি)-র অ্যাপয়েন্টমেন্টের অনুরোধ করুন।
এই লেখাটি সাধারণ সচেতনতার জন্য; এটি চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়।
